পড়ার নোট
বিজ্ঞানের যে শাখা পদার্থ ও শক্তি এবং এ দুইয়ের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করে, তা-ই পদার্থবিজ্ঞান। এটি বিজ্ঞানের প্রাচীনতম শাখা, কারণ অন্য শাখাগুলো গড়ে ওঠার অনেক আগেই এর একটি শাখা জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা শুরু হয়েছিল। একে সবচেয়ে মৌলিক শাখাও বলা যায়: পদার্থবিজ্ঞানের ওপর রসায়ন, রসায়নের ওপর জীববিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে। ভূবিজ্ঞানে পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়োগে জিওফিজিক্স এবং চিকিৎসায় প্রয়োগে মেডিক্যাল ফিজিক্স গড়ে উঠেছে।
পরিসর: পঠনের সুবিধার জন্য পদার্থবিজ্ঞানকে দুই ভাগ করা হয়।
- চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞান: বলবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, তাপ ও তাপগতিবিজ্ঞান, বিদ্যুৎ ও চৌম্বকবিজ্ঞান এবং আলোকবিজ্ঞান।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: আপেক্ষিকতা, কোয়ান্টাম তত্ত্ব, পরমাণু ও নিউক্লিয়াসের মতো বিষয়।
ক্রমবিকাশ: হাজার বছরের পরিশ্রমে পদার্থবিজ্ঞান আজকের অবস্থায় এসেছে।
- আদি পর্ব: আর্কিমিডিস তরলে ঊর্ধ্বমুখী বল নিয়ে কাজ করেন; ইরাতোস্থিনিস পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেন। পরে ভারতীয়, মুসলিম ও চীনা সভ্যতা জ্ঞানচর্চা বাঁচিয়ে রাখে: আর্যভট শূন্যের ব্যবহার, আল খোয়ারিজমির বই থেকে অ্যালজেবরা নাম, ইবনে আল হাইথাম আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি, শেন কুয়ো চুম্বক ও কম্পাস।
- উত্থান পর্ব: ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগৎ, গ্যালিলিওর পরীক্ষানির্ভর বিজ্ঞান, ১৬৮৭ সালে নিউটনের গতির ও মহাকর্ষের সূত্র; পরে তাপ, বিদ্যুৎ ও চুম্বকের গবেষণা এবং ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ।
- আধুনিক পর্ব: ১৯০০ সালে প্ল্যাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্ব, ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি ও , ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব; তাঁর নামে একশ্রেণির কণার নাম বোজন।
- সাম্প্রতিক: ২০১৩ সালে হিগস বোজন শনাক্ত হয়; বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণ ও বিগ ব্যাংয়ের ধারণা।
এই উপমহাদেশের জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৯৫ সালে বেতারে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান; IEEE তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক বলেছে।
সাধারণ ভুল হলো পদার্থবিজ্ঞানকে শুধু সূত্র মুখস্থের বিষয় ভাবা। এটি প্রকৃতির ঘটনা বোঝার বিজ্ঞান, যার ওপর রসায়ন থেকে প্রযুক্তি পর্যন্ত অনেক কিছু দাঁড়িয়ে আছে।
মনে রাখো: পদার্থবিজ্ঞান পদার্থ, শক্তি ও তাদের মিথস্ক্রিয়ার বিজ্ঞান; এর দুই ভাগ চিরায়ত ও আধুনিক, আর এর বিকাশে বহু সভ্যতার বিজ্ঞানীর অবদান আছে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।