offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৩ · টপিক ৩

ইন্টারনেট ও আমার পাঠ্য বিষয়গুলো

পড়ার নোট

একজন শিক্ষক যেন একটি আলোক শিখা: তিনি আলো জ্বেলে দেন, আর সেই আলোতে শিক্ষার্থী নিজেই পথ দেখে শিখে নেয়। ইন্টারনেটও তেমনি শুধু জ্ঞানের একটি নতুন জগৎ খুলে দেয়; সেখান থেকে কতটুকু নেবে, তা পুরোপুরি শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভর করে। কেউ কম্পিউটার গেম খেলে বা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে সময় নষ্ট করে, আবার কেউ একই সুযোগে প্রোগ্রামিং শিখে ফেলে।

পাঠ্যবিষয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের কয়েকটি ক্ষেত্র:

  • পাঠ্যবই: এনসিটিবি সব পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেয় এবং বইগুলো ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়। কোনো বই হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডাউনলোড করে নেওয়া যায়।
  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য: দেশের কিছু উৎসাহী শিক্ষাবিদ পাঠ্যবইয়ের শ্রবণযোগ্য (অডিও) সংস্করণ তৈরি করছেন।
  • সহায়ক বই: অনেক লেখক নিজেদের বই ইন্টারনেটে দিয়ে রাখেন, ফলে বাজার থেকে না কিনেও পড়া যায়। তবে কোনো বই ডাউনলোডের আগে কপিরাইট আইন মেনে চলতে হয়।
  • ক্লাব ও অলিম্পিয়াড: বিজ্ঞান, গণিত বা সাহিত্য ক্লাবে আগে সশরীরে যেতে হতো; এখন ইন্টারনেটে ভার্চুয়াল ক্লাবে সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে পারে। বিভিন্ন বিষয়ের অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতিতেও ইন্টারনেট কাজে লাগে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করা যায়। যেমন, ভূগোলের জন্য 'বাংলাদেশের নদী' নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে প্রথমে নির্ভরযোগ্য সাইট থেকে তথ্য খোঁজা, তারপর তথ্যগুলো যাচাই করে নিজের ভাষায় সাজানো, শেষে বন্ধুদের সঙ্গে দলগতভাবে উপস্থাপন করা যায়।

সাধারণ ভুল হলো ইন্টারনেট থেকে লেখা হুবহু কপি করে প্রতিবেদনে বসিয়ে দেওয়া। তথ্য নেওয়া যায়, কিন্তু লিখতে হয় নিজের ভাষায় এবং অন্যের কাজের স্বত্ব মেনে।

মনে রাখো: ইন্টারনেট পাঠ্যবিষয়ের জন্য বই, ক্লাব ও তথ্যের দরজা খুলে দেয়; কতটা শিখবে তা নির্ভর করে তোমার ব্যবহারের ওপর।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ইন্টারনেটে প্যাকেট রাউটিং ও বিকল্প পথচালিয়ে দেখো

    একটি বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (NCTB) কেন্দ্রীয় ই-বুক সার্ভারে ডিজিটাল পাঠ্যবই ডাউনলোডের রিকোয়েস্ট পাঠানো হলো। ল্যাব থেকে স্থানীয় রাউটারের বিলম্ব ৫ ms এবং সেখান থেকে সরাসরি অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে দুটি ধাপে (প্রতিটিতে ১৫ ms) সার্ভারে পৌঁছাতে স্বাভাবিক অবস্থায় মোট ৩৫ ms সময় লাগে। সড়ক সংস্কারের কারণে প্রধান অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। রাউটারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকল্প আঞ্চলিক পথে ডেটা প্যাকেট পাঠানো শুরু করল, যেখানে ৩টি অতিরিক্ত লিংকের প্রতিটিতে ২০ ms করে বিলম্ব হয়। বিকল্প পথে রিকোয়েস্টটি সার্ভারে পৌঁছাতে মোট কত সময় (ms) লাগবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বিজ্ঞান বা গণিতের এমন কিছু বিমূর্ত বিষয় ও রাসায়নিক বিক্রিয়া রয়েছে যা বিদ্যালয়ের সাধারণ গবেষণাগারে সরাসরি সম্পাদন করা বিপজ্জনক বা অসম্ভব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কোন মাধ্যমটি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নিরাপদে অনুধাবন করতে পারে?

    1. ক

      ইন্টারেক্টিভ কম্পিউটার সিমুলেশন ও অ্যানিমেশন মডেল

    2. খ

      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাধারণ স্ট্যাটাস ও মন্তব্য

    3. গ

      শুধুমাত্র সাধারণ মুদ্রিত টেক্সট ডকুমেন্ট

    4. ঘ

      ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত সাধারণ শুভেচ্ছা বার্তা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ইন্টারেক্টিভ কম্পিউটার সিমুলেশন ও অ্যানিমেশন মডেল

    1. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে বিজ্ঞানের জটিল প্রক্রিয়া, বিপজ্জনক রাসায়নিক বিক্রিয়া কিংবা মহাজাগতিক ঘটনা শ্রেণিকক্ষের গবেষণাগারে সরাসরি দেখানো সম্ভব হয় না।
    2. কম্পিউটার সিমুলেশন ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়ালভাবে বিভিন্ন চলক পরিবর্তন করে বিপজ্জনক প্রক্রিয়াগুলো নিরাপদে ও বাস্তবসম্মতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো